রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫, ১০:৫১ অপরাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
গফরগাঁওয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেললাইন অবরোধ ও মানববন্ধন আমতলীতে ১.৫ কেজি গাঁজাসহ ২জন গ্রেফতার কুয়াকাটায় কম্বলে মোড়ানো যুবকের মরদেহ বাউফলে জমিজমার বিরোধকে কেন্দ্র করে আপন ভাইকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন বরগুনায় সমন্বয়ক পরিচয়ে কোটি কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নিলো যুবক গফরগাঁওয়ের হারানো সাকিরের সন্ধান চান তার পরিবার বরগুনায় সমন্বয়ক পরিচয় দোকানে ঢুকে ব্যবসায়ীকে মারধর মানুষ পিআর পদ্ধতি বোঝেনা, জনগন ভোট দিতে চায়: আক্তারুজ্জামান বাচ্চু বিএনপির ক্ষমতায় গেলে ১৮ মাসে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান করা হবে-আমীর খসরু জাতির অনেক অর্জনের মধ্যে জুলাই বিপ্লব একটি অর্জন-রিজভী

ভালুকা মুক্ত দিবস উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

আশিকুর রহমান শ্রাবন বিশেষ প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের ভালুকায় ৮ ডিসেম্বর ভালুকা মুক্ত দিবস উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার সকালে উপজেলা প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আয়োজনে এ বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

র‍্যালিটি উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শুরু হয়ে পরিষদ এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে শহীদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শেষ হয়। পরে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

১৯৭১ সালে ১৭ এপ্রিল ১টি মাত্র রাইফেল ও ৮ সদস্য নিয়ে একটি গেরিলা মুক্তিবাহিনী দল গঠন করেন মেজর আফসার উদ্দীন। পরবর্তীতে ভালুকা থানা দখল করে সংগ্রহ করেন ১৫/১৬টি রাইফেল ও প্রচুর গোলাবারুদ। ওই ৮ সদস্যের দল পরে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার মুক্তিযোদ্ধার বিশাল বাহিনীতে রূপ নেয়। এফ জে ১১নং সেক্টরের ময়মনসিংহ সদর দক্ষিণ ও ঢাকা সদর উত্তর সাব সেক্টর অধিনায়ক মেজর আফসার ব্যাটেলিয়ন নামে পরিচিতি লাভ করে। যুদ্ধকালীন আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার জন্য ডাক্তার রমজান আলী তরফদারের তত্ত্বাবধানে ৫জন ডাক্তার ১০জন সহকারী চিকিৎসক ও ৪জন নার্সের সমন্বয়ে আফসার ব্যাটেলিয়ান হাসপাতাল নামে একটি ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল পরিচালিত হয়।

১৯৭১ এর ২৫জুন শুক্রবার সকাল হতে ভালুকা-গফরগাঁও সড়কের ভাওয়লিয়াবাজু এলাকার শিমুলিয়া নদীর পাড়ে পাকিস্তানি বাহিনীর সাথে আফসার বাহিনী সম্মুখ যুদ্ধে লিপ্ত হন। টানা ৩৬ ঘণ্টা একটানা যুদ্ধ হয়। শুক্রবার শুরু হওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণে পাক বাহিনী চারিদিকে পানি বেষ্টিত নদীর পূর্বপারে গোয়ারী যোগীপাড়া নামক স্থানে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। সারাদিন সারারাত তিন দিক থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণের মুখে অনেক পাকসেনা নিহত হয়। পরেরদিন শনিবার সন্ধ্যার দিকে যুদ্ধক্ষেত্রের ৪ কিলোমিটার উত্তর পশ্চিমে ধলিয়া গ্রামে ধলিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হেলিকপ্টার থেকে পাক বাহিনী নামিয়ে দিলে মুক্তিযোদ্ধারা ডিফেন্স ছেড়ে চলে আসেন। এই যুদ্ধে আফছার বাহিনীর তরুণ যোদ্ধা অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মল্লিকবাড়ি গ্রামের আব্দুল মান্নান মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। মজিবর রহমানসহ আহত হন আরও ৫জন মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযোদ্ধারা নদীর পশ্চিম দিক হতে একটানা দু‘দিন সম্মুখ যুদ্ধ করায় শতাধিক পাক সেনা নিহত হয়।

ঐতিহাসিক ওই যুদ্ধের খবর স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র হতে সম্প্রচার করা হয়। ওই যুদ্ধের পরে ভালুকা থানা ও বাজার এলাকায় পাক বাহিনীর ক্যাম্পটি শক্তিশালী করা হয়।

আফসার বাহিনী যুদ্ধকালীন বিভিন্ন সময়ে একাধিক বার ভালুকা পাক হানাদার ক্যাম্পে আক্রমণ চালিয়েছে। এছাড়া আমলীতলা যুদ্ধ, বল্লা যুদ্ধ, ত্রিশাল, গফরগাঁও, ফুলবাড়ীয়া, শ্রীপুর, মল্লিকবাড়ি, মেদুয়ারীসহ বিভিন্ন স্থানে পাক বাহিনী ও রাজাকারদের সাথে আফসার বাহিনীর অসংখ্য যুদ্ধ হয়। দীর্ঘ ৯ মাসের বিভিন্ন যুদ্ধে ৪৭জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।

Please Share This Post in Your Social Media

উপদেষ্টা মন্ডলীর সভাপতি :বীরমুক্তিযোদ্ধা আইয়ূব আলী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক :সাংবাদিক এ.আর.এস.দ্বীন মোহাম্মদ
প্রধান কার্যালয় : বুরোলিয়া তালুকদার পাড়া, মোশারফ প্লাজা ৩য় তলা ,গাজীপুর  সদর, গাজীপুর   ।
মোবাইল: ০১৭৪৬৪৯৪৬১০,০১৯৯৫৯০৮০৬৩,০১৯৮৫১৮৫৮৮৪
কারিগরি সহযোগীতায় : দ্বীনিসফট